শিশু কিশোরদের জন্যে সেরা বাংলাদেশী ৫ চলচ্চিত্র!

শিশু কিশোরদের টিভি কিংবা কম্পিউটারে আসক্তি খুবই চিন্তার বিষয়। প্রায় প্রত্যেক বাবা মা তার শিশুর এই আসক্তি নিয়ে চিন্তিত। কিন্তু বর্তমান যুগে আপনি চাইলেও এই ধরনের প্রযুক্তি থেকে সন্তান কে দূরে রাখতে পারবেন না। তাই টিভি কিংবা কম্পিউটারকে কিভাবে শিশুর জন্য কার্যকরী করা যায় সেটা নিয়ে ভাবা যেতে পারে। যেমন হতে পারে ভালো কোন শিশুতোষ সিনেমা যেটা দেখে শিশু ভাবতে শিখে এবং নষ্ট সময়কে কাজে লাগাতে পারে। তাই আজকে আমরা বাংলাদেশের ৫ টি বিখ্যাত শিশুতোষ সিনেমা নিয়ে আলোচনা করব। এই ধরনের সিনেমা শুধু আপনার শিশুর জন্যই না, চাইলে আপনিও দেখতে পারেন এবং নষ্ট সময় কাজে লাগাতে পারেন।

<<<লাইক দিয়ে সাথেই থাকুন>>>

১। এমিলের গোয়েন্দা বাহিনী- ১৯৮০ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত বাদল রাহমান পরিচালিত “এমিলের গোয়েন্দা কাহিনী” একটি বাংলাদেশি শিশুতোষ চলচ্চিত্র। এটি জার্মান লেখক এরিক কাস্টনারের ১৯২৯ সালের উপন্যাস “এমিল এন্ড দি ডিটেক্টিভ” অবলম্বনে নির্মিত। বিশ্বের নানা দেশে এমিলকে নিয়ে ছবি নির্মিত হয়েছে। এমন কী তাকে নিয়ে ডাকটিকেটও ছাপানো হয়েছিলো।

ছবিতে দেখা যায় খেলাঘরের ‘মুক্ত পাখিকে বন্দী কোরো না’ শীর্ষক রচনা প্রতিযোগিতায় প্রথম হয়ে খুলনার ছেলে এমিল ঢাকায় পুরস্কার নিতে আসে। ট্রেনে তার সাথে থাকা ৫০০ টাকা হারিয়ে ফেলে। টাকাটা নানুর জন্য মা দিয়েছিল। এই প্রথম একা কোথাও এসেছে এমিল। বলতে গেলে তেমন কিছুই চেনে না। তারপরও তার কিন্তু অনেক সাহস। যে করে হোক টাকা উদ্ধার করবেই। যে কথা সে কাজ। সন্দেহ হয় হ্যাট পরা একজনকে। তার পিছু নেয় এমিল।

এরপর শুরু হয় তার অভিযান। অভিযানে তার সঙ্গী হয় ঢাকার একদল বিচ্ছু পিচ্চি ও তাদেরই একজনের মামা। এমিল কি শেষ পর্যন্ত টাকা উদ্ধার করতে পারবে? নাকি সে অন্য কোন ফাঁদে জড়িয়ে পড়বে? শেষ কাহিনী জানতে হলে অবশ্যই চলচ্চিত্রটি দেখে ফেলতে হবে।

সেই ছবিটির একটি গানের কিছু অংশ, ‘আমরা যাব অভিযানে সঙ্গে যাবে কে, এই তো আমার বীর বাহিনী কোমর বেঁধেছে’। কেমন লাগছে? বেশ ভালো, তাই না।

২। ছুটির ঘণ্টা- ছুটির ঘন্টা ১৯৮০ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত একটি বাংলাদেশী শিশুতোষ চলচ্চিত্র। ছবিটি পরিচালনা করেছেন আজিজুর রহমান। ঈদের ছুটি ঘোষণার দিন স্কুলের বাথরুমে সকলের অজান্তে তালা বন্ধ হয়ে আটকে পড়ে একটি ১২ বছর বয়সের ছাত্র। আর তালা বন্ধ বাথরুমে দীর্ঘ ১১ দিনের ছুটি শেষ হওয়ার প্রতিক্ষার মধ্যে দিয়ে হৃদয় বিদারক নানা ঘটনা ও মুক্তির কল্পনায় ১০ দিন অমানবিক কষ্ট সহ্য করার পর কিভাবে একটি নিষ্পাপ কচি মুখ মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে এমনই একটি করূন দৃশ্য তুলে ধরা হয়েছে এই ছবিতে। ছবির মূল ভূমিকায় অভিনয় করেছে শিশু শিল্পী সুমন ও অনন্যা চরিত্রে নায়ক রাজ রাজ্জাক, শাবানা, সুজাতা, শওকত আকবর, এবং এ টি এম শামসুজ্জামান।

৩। দিপু নাম্বার ২- “দিপু নাম্বার ২” ১৯৯৬ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত একটি বাংলাদেশি শিশুতোষ চলচ্চিত্র। মুহাম্মদ জাফর ইকবালের ১৯৮৪ সালের একই নামের কিশোর উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেছেন মোরশেদুল ইসলাম। শিশুতোষ চলচ্চিত্রের মধ্যে এটি খুবই জনপ্রিয়।

দিপুর বাবা সরকারি চাকরিজীবী। তাই বদলির কারণে প্রতিবছর দিপুকে বদলাতে হয় স্কুল, বন্ধুবান্ধব ও পরিচিত পরিবেশ। রাঙামাটি জিলা স্কুলের ক্লাস এইটের ছাত্র। বরাবরের মত দিপু তার নতুন শহর ও নতুন স্কুলের সাথে মানিয়ে নেয়। নতুন স্কুলে দিপুর অনেক বন্ধু হয় কিন্তু শুধুমাত্র তারেক ছাড়া। তারেক দিপুর সাথে রীতিমত ঝগড়া বাঁধাতে চেষ্টা করে ও একদিন দিপুর গায়ে হাত তুলে। কিন্তু দিপু এই ব্যাপারে কারো কাছে অভিযোগ করে না। ঘটনাচক্রে একপর্যায়ে দিপু ও তারেকের মধ্যে বন্ধুত্ব হয়। দুইজন একে অন্যের কাছে নিজেদের দুঃখের গল্প শেয়ার করে। তাদের বন্ধুত্ব গভীর হলে দিপু তার সবচেয়ে গোপন অভিযানের কথা তারেক ও তার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করে। এরপর শুরু হয় দুঃসাহসিক অভিযান। বুদ্ধি আর সাহস খাটিয়ে দেশের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন মূর্তি পাচারকারী চক্রকে ধরতে অভিযান। দিপু ও তার বন্ধুরা কি শেষ পর্যন্ত টাকা উদ্ধার করতে পারবে? নাকি তারা অন্য কোন ফাঁদে জড়িয়ে পড়বে? শেষ কাহিনী জানতে হলে অবশ্যই চলচ্চিত্রটি দেখে ফেলতে হবে।

এক্সক্লুসিভ ভিডিও পেতে এখনি সাবস্ক্রাইব বাটনে ক্লিক করুন

৪। দূরত্ব- হুমায়ুন আহমেদের উপন্যাস অবলম্বনে মোরশেদুল ইসলাম নির্মিত দূরত্ব ছবিটি ২০০৪ সালে মুক্তি পায়। এগার বছরের একমাত্র ছেলে পুতুলকে বাবা মা কেউই ঠিকমত সময় দিতে পারেনা। বাসার কাজের বুয়াই ওর দেখা শুনা করে। বই পড়তে ছবি আকতে আর কম্পিউটারে গেম খেলতে ওর ভাল লাগে। এক সকালে জানালা দিয়ে বাইরে তাকাতেই বানরের খেলা দেখতে বেরিয়ে আসে। এরপর সে হাটতে হাটতে একটা পার্কে গিয়ে বসে। সেখানে আগে থেকেই ওর বয়সী আরেকটা ছেলে বসে ছিল। এরপর ওদের মধ্যে বন্ধুত্ব হয়ে যায়। কত শত গল্প হয়। ছেলেটা রেল স্টেশনে থাকে তার এক মাত্র বোনকে নিয়ে। ওদের মধ্যে দারুন সখ্যতা গড়ে ওঠে। ওরা ট্রেনে করে ময়মনসিংহ যায়। সেখানেই ট্রেনে এক গানওয়ালার সাথে দেখা হয় যে গান গায় আর দাতের মাজন বিক্রি করে সেই সাথে কান পাকা মলম কর্ণসুন্দর বিক্রি করে। পুতুল নতুন বন্ধুদের কাছ থেকে একটা টাকা চেয়ে নিয়ে এক কৌটা কর্ণসুন্দর কিনলে সেই বিক্রেতা যে কি খুশি হয় তা বলার নয়।

ওদিকে একমাত্র ছেলেকে না পেয়ে বাবা মা দিশেহারা হয়ে যায়। এক হুজুর ডাকে। সেই হুজুর পুতুলের জামা কাপড়ের গন্ধ শুকে বলে কোথায় আছে। এভাবেই টান টান উত্তেজনায় ছবির গল্প এগিয়ে যায়। পুতুল কি ঘরে ফিরে আসে? জানতে হলে তোমাকে ছবিটা দেখতে হবে।

৫। আমার বন্ধু রাশেদ- মুহম্মদ জাফর ইকবালের শিশুতোষ উপন্যাস অবলম্বনে ২০১১ সালে মোরশেদুল ইসলাম আমার বন্ধু রাশেদ ছবিটি নির্মাণ করেন। দেশমাতৃকাকে স্বাধীন করার ডাকে এক কিশোরের মন কীভাবে আন্দোলিত হয়েছে, সে চিত্রই ফুটে উঠে ছবির কাহিনীতে। প্রেক্ষাপট হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে মফস্বলের ছোট একটা শহর।

ছবিতে দেখা যায়, একাত্তরের উত্তাল দিনগুলো যখন ছোট ছোট ছেলেরা বুঝতে পারছে না, রাজনীতি সচেতন রাশেদ তখন ঠিক তার মতো করে সেটা সবাইকে বুঝিয়ে দিচ্ছে। একসময় পাকিস্তানি সেনাবাহিনী দেশটির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং একদিন এই ছোট শহরেও তারা এসে হাজির হয়। ভয়ংকর এক ধ্বংসলীলার সাক্ষী হয়ে থাকে রাশেদ। স্বাধীনতা সংগ্রামের শুরুতে মুক্তিবাহিনীকে সাহায্য করার জন্য এগিয়ে আসে সে। সঙ্গে কয়েকজন বন্ধু। সম্মুখযুদ্ধে বন্দী হয়ে যায় তাদের পরিচিত একজন মুক্তিযোদ্ধা। একদিন রাশেদ ও তার বন্ধুরা তাকে মুক্ত করে নিয়ে আসে নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে। কিন্তু যুদ্ধের ডামাডোলে রাশেদ ও তার বন্ধুদের একসময় বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে হয়। রাশেদ আরও গভীরভাবে জড়িয়ে পড়ে যুদ্ধে। রাশেদ কি যুদ্ধ শেষে আবার ফিরে আসে? জানতে হলে দেখতে হবে ছবিটা।